অ-মুসলিম দেশে বসবাসরত মুসলিম ঈমান দার বান্দার জন্য খাদ্য বস্তু ( যেমন, বিভিন্ন দোকানে প্রাপ্ত খাদ্য ও পানীয়, রেস্টুরেন্টের খাবার, রান্নার জন্য ব্যবহৃত প্রাণিজ উপাদান তথা, মাছ, গোস্ত ইত্যাদি ) হারাম কিনা সেটা জানা জরুরি।
কি ধরনের খাদ্য গ্রহণ করবে তার একটি সুস্পষ্ট মানদণ্ড ইসলামে রয়েছে।
উল্লেখিত আয়াতে হালাল খাবার গ্রহণ করতে বলা হয়েছে এবং নেক আমলের আদেশ করা হয়েছে। হালাল রুজি খেয়ে আমল করলে কলব ইবাদতের স্বাদ অনুভব করবে এবং আল্লাহর কাছে তা মাকবুল হওয়ার অতি নিকটে পৌঁছবে।
অন্য একটি আয়াতে আরও স্পষ্ট করে মানব সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে খাবারের মানদণ্ড বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে-
হে মানব সম্প্রদায় পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু আহার কর।’-সূরা বাকারা : ১৬৮
হালাল খাবার যে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে শক্তিশালী সহায়ক সেটাও কুরআনে কারীমে স্পষ্ট তুলে ধরা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ঠিক রাখার মাধ্যমেই ইবাদত যথাযথ পালন করা সম্ভব তা সেখান থেকে প্রকাশ পেয়েছে।ইরশাদ হয়েছে-
বান্দা প্রকৃত মুত্তাকী হতে পারবে না, যতক্ষণ না সমস্যাযুক্ত বিষয় (তথা হারাম) থেকে বেঁচে থাকার জন্য সমস্যামুক্ত (অপ্রয়োজনীয় বৈধ ও মুবাহ) বিষয়ও পরিত্যাগ করবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৪৫১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৪২১৫
নুমান ইবনে বাশীর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
নিশ্চয় হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট। উভয়ের মধ্যে রয়েছে অনেক সন্দেহযুক্ত বিষয়। অনেক মানুষ তা জানে না। সুতরাং যে ব্যক্তি সন্দেহযুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও সম্মানের হেফাযত করবে। পক্ষান্তরে যে সন্দেহযুক্ত বিষয়ে লিপ্ত হবে, সে হারামে জড়িয়ে যাবে। যেমন কোনো রাখাল যদি সরকারি সংরক্ষিত ভূমির আশপাশে (পশু) চরায়, তাহলে সমূহ সম্ভাবনা যে, পশু সংরক্ষিত ভূমির মধ্যে ঢুকে পড়বে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৯; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২
সুতরাং যে সংশয়পূর্ণ গোনাহ বর্জন করবে সে স্পষ্ট গোনাহ বর্জনে আরো যত্নবান হবে। আর যে সংশয়পূর্ণ গোনাহে লিপ্ত হওয়ার দুঃসাহস দেখাবে, সে অচিরেই স্পষ্ট গোনাহে জড়িয়ে পড়বে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৪৬
আর জবাইয়ের জন্য একাধিক ব্যক্তি হওয়া জরুরি নয়, একজনও জবাই করতে পারবে। এমনিভাবে আড়াই পোঁচে জবাই করাও জরুরি নয়। এটি একটি ভুল প্রচলন। মাসআলা হচ্ছে, রগ কেটে রক্ত প্রবাহিত করে দেয়া, তা যত পোঁচেই হোক। তবে জবাইয়ের ক্ষেত্রে ধারালো অস্ত্র ব্যবহর করবে। যেন প্রাণীর অধিক কষ্ট না হয়।
জাপানে অনেক Groceries, Restaurants, Super shops , Convenience store শুধু হালাল ( আরবি, ইংরেজিতে লিখে ) গোস্ত ও খাবার বিক্রি করছে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র হালাল লেখা দ্বারাই যে সব হালাল হয় না তার উদাহরণ নীচের রেস্টুরেন্ট। এই রেস্টুরেন্টে শুকুর দিয়ে বানানো খাবার , হালাল চার্টে দেয়া হয়েছে।
অনেক রেস্টুরেন্টে হালাল খাবারেরAvailability সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে, জবাবে হ্যাঁ বলে! অবাক করা বিষয় হলো, যিনি হালাল খাবার পরিবেশন করতে চাচ্ছেন, তিনি জানতেন না হালাল মানে কি।
খাবারের উপাদান যেমন হালাল হওয়া জরুরি খাবার রান্নার পাত্র এবং খাবার গ্রহণের পাত্রও হালাল হতে হবে। যদি কোন খাবার প্রস্তুতকারক পাত্রে শূকর / হারাম উপায়ে জবেহ করা কোন প্রাণি রান্না করে এবং মদ পান/ খাবার রান্নায় মদ ব্যবহার করে তাহলে সেই পাত্র পাক করা ব্যতীত অন্য কোন হালাল খাবার রান্না করা কিংবা খাবার খাওয়া যায়েজ নয়।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نبَتَ منَ السُّحْتِ وكلُّ لحمٍ نبَتَ منَ السُّحْتِ كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِ.
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে দেহের মাংস/মাংস হারাম উপার্জনে গঠিত, তা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। হারাম ধন-সম্পদে গঠিত ও লালিত পালিত দেহের জন্য জাহান্নামই উপযোগী। (আহমাদ১৪৪১, দারিমী ২৭৭৯, বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমান ৮৯৭২)
Shizuoka is a lovely seaside multicultural residential area where people from many other Asian countries live for work and study. Thus, it is important to know the stores that sell daily essentials, particularly grocery items for foreigners. আপনার রান্নার মসলা, চা, বিস্কিট, চানাচুর ,নুডুলস, ভেড়ার গোস্ত, মাছ ইত্যাদি পাবেন এই দোকান গুলিতে। Here is a brief outline of the Asian groceries.
1. Shizuoka Ceylon Food
It contains various types of Asian spices, namely cassia (cinnamon), coriander, chiles, cloves, cumin, galangal, garlic, ginger, star anise, and turmeric. It also contains various halal snacks like chanachur, biscuits, juices, fuska, masala etc. Halal roti, paratha, singara, samucha are also available. Halal meats like mutton ( Padma halal), ship, chicken( JCB), and different types of sweets are available. ডাল, তেল, মসলা, মাছ, ভেড়ার গোস্তের নানান প্রকরণ,বাংলাদেশি শিঙ্গাড়া, সামুসা, ফ্রজেন ফল, কাচা মরিচ, চাউল, আদা, রসুন, আলু, ফলের ড্রিঙ্কস, বিস্কিট, চানাচুর, আটা ইত্যাদি পাবেন। শিজুওকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খুবই কাছের একটা দোকান।
Location: Google Map Adress: 2-chōme-8-59 Magarikane, Suruga Ward, Shizuoka, 422-8006 Owner: Nepali Time: 13:00-20:00 (দুপুর ০১টা থেকে রাত ০৮ টা )
২. Himalayan halal bazar ヒマラヤン・ハラール・バザール
It contains various types of Asian spices, namely cassia (cinnamon), coriander, chiles, cloves, cumin, galangal, garlic, ginger, star anise, and turmeric. It also contains various halal snacks like chanachur, biscuits, juices, fuska, masala etc. Halal roti, paratha, singara, samucha are also available. Halal meats like mutton ( Padma halal), ship, chicken( JCB), and different types of sweets are available. ডাল, তেল, মসলা, মাছ, ভেড়ার গোস্তের নানান প্রকরণ,বাংলাদেশি শিঙ্গাড়া, সামুসা, ফ্রজেন ফল, কাচা মরিচ, চাউল, আদা, রসুন, আলু, ফলের ড্রিঙ্কস, বিস্কিট, চানাচুর, আটা ইত্যাদি পাবেন। শিজুওকা রেল স্টেশন থেকে খুবই কাছের একটা দোকান। ফ্রি হোম ডেলিভারি পাবেন ;08051574224
Location: Google Map Adress: 2-chōme-1-13 Ryogaecho, Aoi Ward, Shizuoka, 420-0032 Owner: Nepali Time: 10:00-22:00 (সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা )
3. チャイ(Chai伝馬町店)indian nepali restaurant
It contains various halal snacks like chanachur, biscuits, masala, etc. Halal roti, noodles, and atta are also available.
Halal meats like mutton ( Padma halal), ship, chicken( JCB), and different types of sweets are available. ডাল, তেল, মসলা, ভেড়ার গোস্তের নানান প্রকরণ, চাউল, আদা, রসুন, বিস্কিট, চানাচুর, আটা ,নুডুলস ইত্যাদি পাবেন। শিজুওকা রেল স্টেশন থেকে খুবই কাছের একটা দোকান।
Location: Google Map Adress: 8-2 Tenmacho, Aoi Ward, Shizuoka, 420-0858 Owner: Nepali Time: 11:00-15:00 ; 15:00-22:00 (১১ টা থেকে ৩ টা ; বিকেল ০৫টা থেকে রাত ১০ টা )
4. Himalayan Mart ヒマラヤン マート & ヒマラヤン カレー ハウス
It contains various types of Asian spices, namely cassia (cinnamon), coriander, chiles, cloves, cumin, galangal, garlic, ginger, star anise, and turmeric. It also contains various halal snacks like chanachur, biscuits, juices, fuska, masala etc. Halal roti, paratha, singara, samucha are also available. Halal meats like mutton ( Padma halal), ship, chicken( JCB), and different types of sweets are available. ডাল, তেল, মসলা, মাছ, ভেড়ার গোস্তের নানান প্রকরণ,বাংলাদেশি শিঙ্গাড়া, সামুসা, ফ্রজেন ফল, কাচা মরিচ, চাউল, আদা, রসুন, আলু, ফলের ড্রিঙ্কস, বিস্কিট, চানাচুর, আটা ইত্যাদি পাবেন। শিজুওকা রেল স্টেশন থেকে খুবই কাছের একটা দোকান।
Location: Google Map Adress: 4 Chome-2-24 Komagatadori, Aoi Ward, Shizuoka, 420-0042 Owner: Nepali Time: 10:00-21:00 (সকাল ১০ টা থেকে রাত ০৯ টা ) Monday 13:00-19:00 (সমাবার ০১ টা থেকে ০৭ টা)
5. Sunrise Halal Food Shizuoka It is on the same road as of Shizuoka Ceylon Food. Like the Ceylon food, it also contains various types of Asian spices, namely cassia (cinnamon), coriander, chiles, cloves, cumin, galangal, garlic, ginger, star anise, and turmeric. It also contains various halal snacks like chanachur, biscuits, juices, fuska, masala, Shon papri, noodles etc. Halal roti, paratha, singara, samucha are also available. Halal meats like mutton ( Padma halal), ship, chicken( JCB), and different types of sweets are available. Location: Google Map Adress: 2 Chome-7-71 Magarikane, Suruga Ward, Shizuoka, 422-8006 Owner: Nepali Time: 10:00-21:00
6. Golden House Asian food store
It is located about 1 km from the Shizuoka station; this store has some halal fish and meat items. It contains sabudana and one type of halal noodles. Other items are related to nonmuslum communities from Asia. এখানে ভেড়ার গোস্ত, মাছের আইটেম, সাবু দানা পাবেন। এনারা মুলিমদের হালাল হারাম সম্পর্কে তেমন একটা জ্ঞান রাখেন না। তবে আপনি সময় নিয়ে খুজলে হালাল সিল যুক্ত নুডুলস, বিস্কিট, ওয়েফার, চিপস পেতে পারেন। Location: Google Map Adress: 1 Chome-18-8-2 Nakada, Suruga Ward, Shizuoka, 422-8041 Owner: Myanmar Time: 12:00-18:00
7. Vietfoody ベトナム食材店 "Tạp hóa shizuoka"
It is about 0.5 km from the Shizuoka station; this store has halal fruits like Frozen Jackfruit, Lichee, mango, and Coconuts. Other items are related to nonmuslum communities from Asia. এখানে মূলত ফলের আইটেম ( কাঁঠাল, আম, ডাব) কাচা বাদাম পাবেন। এই দকানে মাছ আছে কিন্তু সেগুলি হালাল নয় এমন আইটেম যেমন, পাতিহাস, ব্যাং ইত্যাদির সাথে রাখা। আর এনারা মুলিমদের হালাল হারাম সম্পর্কে তেমন একটা জ্ঞান রাখেন না। তবে আপনি সময় নিয়ে খুজলে হালাল সিল যুক্ত নুডুলস, বিস্কিট, ওয়েফার, চিপস পেতে পারেন। Location: Google Map Adress: 〒422-8061 Shizuoka, Suruga Ward, Morishitacho, 1−16 エスカイア森下 101 Owner: Vietnam (+81 80 3676 1689) Time: 10:00-19:00
8. Xuân Shop Việt Nhật
It is about 0.5 km from the Shizuoka station; this store has halal fruits like Frozen Jackfruit, Lichee, mango, and Coconuts. Other items are related to nonmuslum communities from Asia. এখানে মূলত ফলের আইটেম ( কাঁঠাল, আম, ডাব) কাচা বাদাম পাবেন। এই দকানে মাছ আছে কিন্তু সেগুলি হালাল নয় এমন আইটেম যেমন, পাতিহাস, ব্যাং ইত্যাদির সাথে রাখা। আর এনারা মুলিমদের হালাল হারাম সম্পর্কে তেমন একটা জ্ঞান রাখেন না। তবে আপনি সময় নিয়ে খুজলে হালাল সিল যুক্ত নুডুলস, বিস্কিট, ওয়েফার, চিপস পেতে পারেন।
Direction:
⏩First, go to the 静岡PARCO building (link in the Google map and in the picture above). 🔀Then go underground. 🔀Follow the underground path; you will see the store at the end of the row. (with the red flag having a star; last image)
Location: Google Map Address: 6-7 Koyamachi, Aoi Ward, Shizuoka, 420-0852 Owner: Vietnam (Wholesale is also available) Time: 11:00-20:00 ( সোমবার বন্ধ)
অনেক মুসলিমই উচ্চতর ডিগ্রি এবং জীবনসামগ্রীর আরো উন্নতি,আরো স্বচ্ছলতা-স্বাচ্ছন্দ, দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতার উদ্দেশ্যে আমেরিকা /ইংল্যান্ড / অস্ট্রেলিয়া এর মত অমুসলিম দেশে যেতে চাই সম্ভব হলে একেবারে থেকে যেতে চাই।
অনেকেরই প্রশ্ন ইসলামী শরীয়ত এই ব্যাপারে কি বলে? ইসলামে কি এব্যাপারে অনুমতি আছে?
উত্তর: এক্ষেত্রে শরয়ী দৃষ্টিকোণ হলো,অমুসলিম দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা এবং সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করা,এটি এমন একটি মাসআলা,যার হুকুম স্থান কাল পাত্র ভেদে,প্রেক্ষাপট পরিস্থিতি এবং বসবাসকারী
ব্যক্তির উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে হুকুমও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
১.কোনো ব্যক্তির যদি স্বীয় মুসলিম দেশে এতটুকু জীবিকা উপার্জনের ব্যবস্থা থাকে,যতটুকু দ্বারা সে নিজ শহরের স্টাটাস অনুযায়ী চলতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র জীবনসামগ্রীর আরো উন্নতি,আরো স্বচ্ছলতা-স্বাচ্ছন্দ, দুনিয়ার ভোগ-বিলাসিতার উদ্দেশ্যে কোনো অমুসলিম দেশে যেতে চায় এবং দারুল হারবের পরিচয় ও জাতীয়তাকে শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং সেটাকে দারুল ইসলামের পরিচয় ও জাতীয়তার উপর প্রাধান্য দিয়ে কোনো অমুসলিম দেশের নাগরিকত্ব ও জাতীয়তা অর্জন করা জায়েয নয়। কেননা, এক্ষেত্রে ইহকালীন পরকালীন কোনো প্রয়োজন ছাড়া সেখানকার অশ্লীলতা বেহায়াপনায় নিজেকে নিজে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আর বিনা প্রয়োজনে নিজের দ্বীন-ধর্ম, আখলাক-চরিত্র ইত্যাদিকে এক ঝুকির মধ্যে ফেলে দেয়া কোনো অবস্থাতেই বৈধ হতে পারে না।
এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা হলো, যারাই শুধুমাত্র সুখী, সমৃদ্ধি, ভোগ-বিলাসিতার উদ্দেশ্যে কোনো অমুসলিম দেশে বসবাস করছে, তাদের ধর্মীয় চেতনা একেবারে দুর্বল হয়ে যায়। এধরনের লোকেরা কুফরী পরিবেশে থেকে সেখানকার কালচারে উজ্জীবিত হয়ে যায়। আর ধীরে ধীরে তারা কেবল তাদের চেহারা (পোশাক, পোশাক, আকৃতি ও রূপ) এবং অবয়বে কাফেরদের সাদৃশ্যতাই গ্রহণ করে না, বরং কাফেরদের সাদৃশ্যতাকে
নিজেদের জন্য গর্বের কারণ মনে করে, যা স্পষ্টতই হারাম।
একারণে পবিত্র হাদীস শরীফে অত্যন্ত প্রয়োজন ব্যতীত, অমুসলিমদের সাথে বসবাস করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
যেমন, আবু দাঊদ শরীফে হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন :
من جامع المشركين وسكن معه، فانه مثله –
“যে ব্যক্তি অমুলিমদের সাথে চলাফেরা করবে এবং তাদের সাথে বসবাস করবে, সেও তাদের অনুরূপ হবে”। (আবু দাঊদ,আবু দাঊদ ২/৩৮৫)
হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন :
انا بريئ من كل مسلم يقيم بين اظهر المشركين، قالوا يا رسول الله! لم؟ قال لا ترئ اي نارهما-
“সেসব মুসলমানদের ব্যাপারে আমার কোন দায়-দায়িত্ব নেই, যারা অমুসলিমদের সাথে বসবাস করে। সাহাবায়ে কিরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এর কারণ কি? তিনি উত্তরে বললেন, ইসলামের অগ্নি এবং কুফরীর অগ্নি উভয়টি এক সাথে থাকতে পারেনা। কোনটি মুসলমানের আগুন, কোনটি অমুসলিমের আগুন তোমরা তা পার্থক্য করতে পারবেনা”। আবু দাঊদ ৩/৪৫
আবু দাঊদ শরীফে মাকহূল (রহ.) থেকে মুরসাল রিওয়ায়াত, রাসূলুল্লাহ স. ইরশাদ করেন : “নিজেদের সন্তান-সন্তুতিদেরকে অমুসলিমদের মাঝে ছেড়ে দিওনা”। (তাহযীবুস সুনান লি ইব্ন কায়্যিম ৩/৪৩৭)
একারণে ফুকাহায়ে কিরাম বলেন, শুধুমাত্র চাকরির উদ্দেশ্যে কোনো মুসলিম ব্যক্তির জন্য অমুসলিম দেশে বসবাস করা এবং তাদের সংখ্যায় বৃদ্ধি করা, এটি এমনি একটি কাজ, যার দ্বারা তার ন্যায়পরায়নতা
চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। (তাকমিলায়ে রাদ্দুল মুখতার ১/১০১)
২.যদি কোনো মুসলমান কোনো কঠিন অজুহাত ও বাধ্যবাধকতার কারণে অমুসলিম দেশে চলে গিয়ে বসবাস শুরু করে,যেমন,কোনো অপরাধ ছাড়াই তারা নিজ দেশে নৃশংসতা ও কারাবরণ করছে এবং এসব জুলুম থেকে বাঁচার অন্য কোনো উপায় না থাকে বা কোনো ব্যক্তি চরম অর্থনৈতিক সংকটের শিকার হয় এবং চেষ্টা সত্ত্বেও ইসলামী দেশে অর্থনৈতিক সম্পদ না পাওয়া যায় এবং তার নিজের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা থাকে যে,সে একটি অমুসলিম দেশে শরিয়া নিয়ম মেনে তার ধর্ম ও ঈমান রক্ষা করতে পারবেন এবং সে দেশে বিদ্যমান মুনকারাত ও অশ্লীলতার সাগরে ডুবে যাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন। এমনিভাবে যদি স্ত্রী-সন্তানাদি সাথে থাকে তাহলে তাদের সম্পর্কেও এই আস্থা থাকা শর্ত। তাহলে এ পরিস্থিতিতে তার জন্য অমুসলিম দেশে বসবাস এবং সেখানকার নাগরিকত্ব অর্জন জায়েয। যেমনটা সাহাবায়ে কেরাম রাযি. তাদের স্বদেশে ধর্মের উপর ভিত্তি করে প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড ও পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে একটি অমুসলিম দেশে (আবিসিনিয়া) তাদের জীবন রক্ষার জন্য তাদের আশ্রয় নিয়েছিলেন।
৩.এমনিভাবে কোনো ব্যক্তি যদি মুসলিম দেশে হন্যে হয়ে খোঁজাখোঁজি করা সত্ত্বেও জীবিকা উপার্জনের কোন সোর্স ব্যবস্থা করতে না পারে এবং অমুসলিম দেশে বৈধ চাকরি করার উদ্দেশ্যে সেখানে যায় তাহলে সেটাও বৈধ হবে। তবে শর্ত হলো, সেখানে ধর্ম পালনে বাধাপ্রাপ্ত না হতে হবে।কেননা, হালাল জীবিকা অন্বেষণ করাও ফরজ ইবাদতসমূহের পর একটি অন্যতম ফরজ কাজ। আর জীবিকা উপার্জনের জন্য ইসলাম কোনো জায়গাকে নির্দিষ্ট করে দেয়নি।বরং জীবিকা উপার্জনের ব্যাপারে ইসলামের ব্যাপক অনুমতি রয়েছে যে,যেখান থেকে ইচ্ছা করবে সেখান থেকে জীবিকা উপার্জন করতে পারবে।
যেমন কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে :
هو الذي جعل لكم الارض ذلولا فامشوا في مناكبها وكلوا من رزقه واليه النشور-
“আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন সুগম, সুতরাং তোমরা তাতে ভ্রমণ কর এবং তার দেয়া জীবিকা থেকে আহার কর, তোমাদেরকে তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে”। (সূরা মুলক, আয়াত, ১৫)
৪.এমনিভাবে কাফেরদের কাছে দ্বীনের দাওয়াত দিবে, কিংবা সেখানে বসবাসরত মুসলিমদেরকে ইসলামী হুকুম আহকাম শিক্ষা দিবে, কিংবা দ্বীনের উপর অটল অবিচল থেকে শরীয়তের বিধি-বিধান পালনের ব্যাপারে উদ্ধুদ্ধ করবে, এসব উদ্দেশ্যে সেখানে বসবাস করা শুধু কেবল জায়েযই নয়, বরং ছাওয়াবের অধিকারীও হবে। যেমন বহু সাহাবায়ে কিরাম এবং তাবেঈনগণ এধরনের নেক নিয়তে অমুসলিম দেশে বসবাস করছেন। যা পরবর্তীতে তাদের সুমহান জীবন চরিতের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গিয়েছে।
৬.মুসলমানদের উপর গর্ব করার জন্য দারুল ইসলামের উপর দারুল কুফরকে প্রাধান্য দেওয়া, যেন কাফেরদের জীবন ব্যবস্থার ন্যায় তাদের জীবন ব্যবস্থা হয়ে যায় কিংবা তাদের কালচার গ্রহণের জন্য অমুসলিম দেশে বসবাস করে, এসব উদ্দেশ্যে অমুসলিম দেশে বসবাস করা শরী‘আত অনুযায়ী সম্পূর্ণ হারাম।
যেমন হাদিসে এসেছে,
من تشبه بقوم فهو منهم. الحدیث.
(مشکاة المصابیح، کتاب اللباس، الفصل الثاني، ۲/۳۷۵، ط: قدیمی کراچی)
যে ব্যক্তি কোনো জাতির অনুকরণ করে সে তাদেরই একজন। মিশকাতুল মাসাবিহ 2/375
৭. অমুসলিম দেশে প্রথম থেকেই বসবাসরত একজন নওমুসলিম যার জন্য অন্য দেশে বসবাস করা কঠিন এবং সেই দেশে বসবাস করে ইসলাম পালনে বাধাপ্রাপ্ত না হয় তাহলে তার জন্যও সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।
৮.চিকিৎসার জন্য অমুসলিম দেশে যাওয়া,প্রকাশ থাকে যে,এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন,যদি স্বদেশে এটি অসম্ভব হয় তবে অমুসলিম রাষ্ট্রে যাওয়া জায়েয।
৯.যতদূর শিক্ষার ক্ষেত্রে,এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং গুরুতর বিষয়।স্পষ্টতই এর জন্য বাসস্থান প্রয়োজন। যে সকল অবস্থায় অমুসলিম দেশে আবাস গ্রহণ করা মাকরূহ বা হারাম সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য যাওয়া এবং সেখানে বসবাস করা মাকরূহ বা হারাম হবে।
আর যে সকল অবস্থায় অমুসলিম দেশে আবাস গ্রহণ করা জায়েয সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য যাওয়াও জায়েয হবে।
তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে যে,যদি নিজ দেশে ধর্মীয়,জাগতিক শিক্ষাগত চাহিদা পূরণ করা যায়, তাহলে অবশ্যই এই নোংরা পরিবেশ থেকে দূরে থাকা উচিত। ফাতাওয়ায়ে বাইয়্যিনাত 3/372
রচনা ও সম্পাদনাঃ ইমরান নুর মানিক (দোয়ার দরখাস্ত রইল)
ক)আসার আগের নানাবিধ প্রস্তুতি গ্রহণ করার দিকনির্দেশনা
১। বিমানের টিকিট অনুযায়ী (পারলে লাগেজ ওজন করে) মালামাল লাগেজে ভর্তি করা। ২। হাত ব্যাগও মালামাল ভর্তির পর ওজন করে নেয়া আবশ্যক। ৩। কমপক্ষে ১,৫০,০০ থেকে ২,০০,০০০ ইয়েনের ব্যবস্থা করা। - ইয়েন বাংলাদেশ থেকে কিনে আনতে পারে ( মানি একচেঞ্জ থেকে কিনতে হবে) - অথবা জাপানে থাকা পরিচিত কারও মাধ্যমে ( তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলা টাকা দেশে প্রদান করে ) জাপানে ইয়েন বুঝে নিতে পারেন। -মুদ্রা বিনিময় হার Payforex, JME remit , JRF Remit থেকে দেখে নিতে পারেন। ৪। এই ইয়েন আপনি নগদ আপনার সাথে (লাগেজে দিবেন না) বিমানে বহন করতে পারবেন। ৫। যেই বিমানে আসবেন, তাদের সাথে অবশ্যই ইমেলে কন্টাক্ট করে আপনার জন্য হালাল খাবারের ব্যবস্থা করে নিবেন। ৬। বিমান ছাড়ার কমপক্ষে ৪/৫ ঘন্টা আগেই বিমান বন্দরে টিকিটে উল্লেখিত সময়ে নির্ধারিত টার্মিনাল দিয়ে প্রবেশ করবেন। প্রথমেই আপনার লাগেজ, ব্যাগ ইত্যাদি কনভেয়ার বেল্টে দিয়ে চেক করা হবে ।
খ) বিমান বন্দর
৭। আপনার মোবাইলে যেন যথেষ্ট পরিমানে চার্জ থাকে, এ জন্য দরকার হলে পাওয়ার ব্যঙ্ক সাথে নিবেন। ৮। বিমানে, জাপানের বৈদ্যুতিক রেল এবং বিশ্বরোডের বাসে চার্জ দেয়ার ব্যবস্থা আছে । এজন্য এদেশের চার্জার ক্যাবল এবং এডাপ্টার সাথে আনতে হবে। ৯। বিমান বন্দরে ঢোকার পর ট্রলি নিয়ে তাতে আপনার লাগেজ ও ব্যাগ বহন করতে পারেন। ট্রলির হাতলে চাপ দিয়ে চালাতে হয়।
১০। এরপর আপনার এয়ারলাইনের কাউন্টার খুজে টিকিট চেক করে নিবেন।এখান থেকে মুল টিকিট পাবেন। যেটা আপনার বোর্ডিং পাস হিসেবে গণ্য হবে।
১১। অতঃপর আপনার লাগেজ ওজন করে বুকিংএ দিবেন। লাগেজের সাথে হাত ব্যাগ ও মাপতে পারে। লাগেজে এবং আপনার পাসপোর্টে অবশ্যই বুকিং স্লিপ লাগাইয়ে দিবে।
১২। এরপর আপনার ইমিগ্রেশন পুলিশ বক্সে চেকিং সম্পাদন করতে হবে। .
১৩।যে সমস্ত কাগজপত্র বিমান বন্দরে চেক করে সেগুলি আর অন্যান্য ডকুমেন্ট এর কপি সাথে রাখবেন। এখানে কোন কাগজ নিলে সচরাচর ফেরিত দেয়া হয় না। তবে হাতে সময় থাকলে ফটোকপি করতে পারবেন। ভেতরে ফটোকপি মেশিন আছে।
১৪। ফাইনাল চেকিং রুমে বিমানে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এজন্য এই রুমে ঢোকার আগেই অজু করে নামাজের ওয়াক্ত হলে নামাজ পরে নিবেন। আর হাত ব্যাগে ছোট জায়নামাজ রাখবেন, যদি বাইরে থেকে পড়া না যায় তাহলে রুমেই মধ্যেই পড়ে নিবেন।
গ) বিমান ও অবতরণ
১। বিমানে ওঠার আগে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে। ২। সিট দেখে বসবেন। ট্রানজিটের পর নতুন বিমানেও সিট দেখে বসবেন। ৩। খাবার দেয়ার সময় জুস, মদ ইত্যাদি ফ্রি দেয়। সর্বাবস্থায় হারাম বর্জন করতে হবে। বিশেষ করে গোস্ত, জুস আর দুগ্ধজাত খাবার দিলে অবশ্যই জিজ্ঞেস করে নিতে হবে। টকিট কাটার সময়েই হালাল মিলের জন্য রেজিস্ট্রেশন করবেন।
৪। অবতরনের পর, আপনাকে একটা ফর্ম পুরন করতে হবে , যেখানে আপনার থাকার ঠিকানা লেখা লাগবে। এই ঠিকানা আপনার ভিসা এপ্লিকেশনে লেখা থাকে। ( এক কপি এপ্লিকেশন নিজের সাথে রাখবেন।)
৫। ইমিগ্রেশনে আপনার চেহারা মিলিয়ে দেখবে, পার্ট টাইম জব করতে চান কি না জিজ্ঞেস করবে, হ্যা বললে আপনার রেসিডেন্স কার্ড ( zairyu card) এর উল্টা দিকে ২৮ ঘন্টা/সপ্তাহ ছেপে দিবে।
৬। আপনি কি জন্য জাপানে আসলেন জিজ্ঞেস করবে, আর Admission certificate দেখতে চাইতে পারে। ৭। এখান কার কাজ শেষ হলে, আপনার লাগেজ সংগ্রহ করবেন।
ঘ) কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছান
১। সবচেয়ে ভাল হয় , দেশ থেকেই কে, কিভাবে , কার সাহায্যে গন্তব্যে পৌঁছাবেন সেটা ঠিক করে আসা। জাপানি ভাষা জান থাকলে অবশ্য ভিন্ন কথা। ২। বিমান বন্দর থেকে রেল/ বাস স্টেশনে গিয়ে টিকিট কাটতে হবে। দ্রুত পৌঁছার জন্য বৈদ্যুতিক ট্রেনে যাওয়াই সবচেয়ে ভাল। আপনার মোবাইলে ট্রেনের পুরা নেভিগেশন দেখে গন্তব্য ইস্টেশনে নামবেন। ট্রেনের মধ্যে ফ্রি ওয়াই ফাই থাকে। ৩। কেউ যদি আপনাকে নিতে আসে তাহলে আর কোন সমস্যা নেই। গন্তব্যে পৌঁছার আগে ট্রেনের মধ্যে নাস্তা করতে পারেন। ৪। গন্তব্যে পৌঁছার পর আপনার থাকার জায়গা বুঝে নিতে হবে। এসময় ভাড়া বাসা হলে, কি মানি, এক মাসের ভাড়া, ইন্স্যুরেন্সের টাকা নগদ পরিশোধ করতে হতে পারে। ( যার পরিমাণ সিঙ্গেল রুমের জন্য প্রায় ৮০,০০০ ইয়েন হতে পারে) ৫। রুমে ঢুকে, লক, ট্যাপ,বাথ্রুমের গরম-ঠান্ডা পানির প্রবাহ, লাইট, এসি ঠিক আছে কিনা দেখে নিন।ঙ)প্রথমিক প্রয়োজন
এগুলোর মধ্যে অনেক বাসায় মালিকের পক্ষ থেকে মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ওয়াশিং মেশিন,ফ্রিজ ,ইন্ডাকশন চুলা দেয়া থাকে। যদি না থাকে তাহলে আসার পর যত দ্রুত সম্ভব এগুলির ব্যবাস্থা করা লাগবে।
২। রান্নার উপকরণঃ যদি হারাম মালে শরীর পরিপুষ্ট করে জাহান্নামের উপযুক্ত হতে না চান তাহলে বাইরের খাবার বাদ দিয়ে নিজে রান্না করে খেতে হবে। এ জন্য লাগবে
-গুড়া মসলা - হলুদ, মরিচ, জিরা,ধনে, গরম মসলা ( চাইলে দেশ থেকে আধা কেজি করে আনতে পারেন/ এখান থেকেও অনলাইন হালাল শপ/ সরাসরি যদি কোন শপ থাকে তাহলেসেখান থেকে কিনতে পারবেন )
-কাচা মসলাঃ রসুন, আদা,পেয়াজ ( বাটাও পাওয়া যায়। এগুলো দেশ থেকে আনা যাবে না।) -রান্না সম্পর্কে প্রথামিক ধারনা থাকা দরকার, তা-নাহলে হালাল খাবারের জন্য বহু কষ্ট হয়ে যাবে। ( প্রথমদিকে হয়ত দু এক বেলা দাওয়াত পেতে পারেন)
চ) কোথায় পাবেন?
১। হাড়ি পাতিল - নতুন (কিনতে চাইলে নানা দামের পাত্র পেতে পারেন )Don Quijote (দঙ্কি নামে পরিচিত), সান ড্রাগ, দাইসো ( এখান থেকে অল্প দামে অনেক ধরনের জিনিস পাবেন) থেকে নিতে পারবেন।
-পুরাতন Joy Plaza Takamatsu store হতে পাবেন। তবে পুরাতন পাত্র নিলে অবশ্যই নাপাক থেকে পাক করার তরিকায় পাক করে নিতে হবে। ( যেহেতু কি ধরনের খাবার প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়েছে জানা নাই তাই অজ্ঞাত উৎসের জামা কাপড়ও পাক করেই ব্যবহার করতে হবে।)
২। জামা কাপড় ও বিছানাপত্রঃ এগুলি Akanoren Shizuokafujimidaiten,Fashion Center Shimamuraতে পাবেন। জয় প্লাজা, সান্ড্রাগ, UniQlo,সেকেন্ড ইস্ট্রিট (second hand cloth shop) এগুলিতেও পাবেন।
৩। অন্যান্য খাবার দাবারঃ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এমন convenient store যেমন- Family mart, ‘সেভেন eleven, minimini এগুলিতে হালাল খাবারের কিছু আইটেম পেতে পারেন কিন্তু দাম বেশি হবে। Big ( Aeon Big), Valor, Donki,MoM, গিয়েমু এগুলিতে সাক সবজি, মাছ, পেয়াজ, আলু, বেগুন, রসুন, ফল ইত্যাদি পাবেন। যাই কিনবেন হালাল কিনা দেখে নিবেন। এজন্য হালাল জাপান এর এপ ১৩০০ ইয়েন/বছর ব্যবহার করতে পারেন।
( আরও free app পাবেন, কিন্তু সেগুলোতে শুধু উপাদানের তথ্য থাকে, উৎপাদন প্রক্রিয়া নয়)
৪। হালাল শপঃ অনেক এলাকায় হালাল শপ থাকে সেখান থেকে গোস্ত ও অন্যান্য মসলা পাতি নিতে পারবেন। অনেক অনলাইন হালাল শপ থেকেও নিতে পারবেন। এক্ষত্রে একটা নির্ধারিত পরিমানের ওপরে গেলে কুরিয়ার চার্জ ফ্রি হয়। যেমন বাতিক্রম হালাল শপ। ( এখান থেকে সম্ভব্য দাম সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন)
ছ) যানবাহন
১। চলার জন্য কমপক্ষে একটা সাইকেল লাগবে।যদি স্কুটি, মটরসাইকেল, প্রাইভেট কার চালানোর ইচ্ছা থাকে তাহলে , বিমানে উঠার কমপক্ষে ৪ মাস আগেই দেশের লাইসেন্স পেতে হবে।
২। এখানে আসার আগেই ইন্টারন্যাশনাল লাইসেন্স আনতে হবে। ৩। এখানে এসে যদি পরীক্ষায় পাশ করেন তাহলে এদেশের লাইসেন্স পাবেন। ৫। সাইকেল রাস্তার বাম পাশে চলে, রাতের বেলায় অবশ্যই আলো জালায়ে রাখতে হবে, আর সবসময় মনে রাখতে হবে যে , ফুটপাথের তথা পায়ে হেতে চলা ব্যক্তির অগ্রাধিকার সবচেয়ে বেশি। ৬। বাসে চলাচলের সময় ঢোকার সময়ই টোকেন টেনে নিবেন, তারপর টোকেন অনুযায়ী ভাড়া দিবেন। অথাবা বাস/ট্রেন পাস বানিয়ে নিবেন।
৭। সাধারণত মোবাইলেই চলাচলের সকল দিকনির্দেশনা এবং সম্ভব্য ভাড়ার পরিমাণ ইয়াহু ম্যাপ, গুগোল ম্যাপে পেয়ে যাবেন।
৮।ডাস্টবিন এর জন্য আলদা করে পলিথিনের প্যাকেট (গমি ফুকুরো বলে পরিচিত)কিনতে হবে। Plastic. Bottle. Burnable আলাদা আলাদা জায়গায় ফেলতে হবে।
জ)দেশ থেকে আনবেন
১। আপনার পোশাক ( যেগুলি এদেশে পাওয়া যাবে না )
যেমন: 📌পাঞ্জাবি, পায়জামা, টুপি, জায়নামাজ
📌three পিস, শাড়ী, (মহিলা হলে তাঁর যে পোশাক এ দেশে পাওয়া যায় না সেগুলি বিশেষ করে চুল বাধার সকল উপকরণ এখানে অত্যন্ত দামী)
📌লুঙ্গি, গামছা,তোয়ালে ইত্যাদি
📌কেটস ও মোজা ( ৩ জোড়া),ফর্মাল সু , কোট আনতে পারেন
📌বিছানার চাদর,
📌হালাকা শীতের পোশাক, চামড়ার মোজা ( শীত কালে ওজু করে পরা হলে, পরবর্তী অজুর সময় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত পা না ধুয়ে মাসেহ করা যায় ) । ভারি শীতের পোশাক এখান থেকে কিনলেই ভাল হয়। ( বাংলাদেশের শীতের পোশাক এখানে বেশিরভাগসময়ই তেমন কাজে আসে না।) 📌ব্রাশ ( ৩/৪টা),পেস্ট ( ফ্যামেলি সাইজ), সুই সুতা,
📌গায়ে মাখা ক্রিম, লিপ জেল, কোল্ড ক্রিম, সাবান,
📌ছোট আয়না, বালিশ,
📌চশমা ( ৪/৫ জোড়া), নেইল কাটার, ব্লেড,
📌প্লাস্টিকের স্যান্ডেল,
📌বাজার করার কাপড়ের ব্যাগ,
📌ছোট ছাতা,
📌ছোট কেঁচি📌পিঠে কম্পিউটার বহনের ব্যাগ ইত্যাদি।
২। মসলা ( প্রাগুপ্ত)
⏩হলুদ গুড়া,মরিচ গুড়া, ধনে গুড়া,
⏩জিরা, জিরা গুড়া, লবঙ্গ, ফল, দারুচিনি,
⏩গরম মসলা, গরম মসলার গুড়া,
⏩আদা রসুন পেস্ট (তবে কাচা হলে অনেক ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে আটকে দেয়),
⏩মাংসের মসলা, মাছের মসলা, মুরগির মসলা,
☠ কাচা মাল এনে ধরা পড়লে বিমাবন্দরে রেখে দিবে। কাজেই পেয়াজ, কাচা ঝাল, রসুন, আদা, কাচা আম ইত্যাদি না আনাই ভাল।
৩। দেশের শীতের পোশাক দামি হলেও, এখানে এসে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাল কাজ করে না। তাই শীতের পোশাক এখানে এসে নিলে ভাল।
হালকা পোশাক যেমন
✍ফুল হাতা গেঞ্জি,
✍পোশাকের নীচে পরার পাতলা ট্রাউজার ইত্যাদি কেন লাগতে পারে.
৪। পেন্ডাইভ, হার্ড ডিস্ক আনতে পারেন, তবে কম্পিউটার এখানে এসে কিনলে ভাল। সেকেন্ড হ্যান্ড শপ যেগুলি জাপানিরা চালায় ( যেমন জান পাড়া-Janpara Shizuoka) সেখান থেকে নিতে পারেন। অথবা কিস্তিতেও কম্পানি থেকে কিংবা university coop থেকেও নিতে পারেন।
৫। প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন ✍জ্বরের জন্য নাপা, নাপান এক্ট্রা,
✍আমাশয়, ক্রিমিনাশক, গ্রাস্ট্রিকের ওষুধ
✍হালকা এলারজি নাশক ইত্যাদি আনতে পারেন।
✍ব্যাথা নাশক জেল, মলম (আপনি যদি নিয়মিত কোন ওষুধ গ্রহণ করেন সেটা , প্রেসক্রিপশন সহ নিয়ে আসবেন।)
৬। ল্যাবের সুপারভাইজারের জন্য, আর আপনার টিউটরের জন্য দেশি কোন ছটখাট উপহার আনতে পারেন। যেমন বাহারি পার্স।
নিজের জন্য আনার উপকরনের লিস্ট (নমুনা)
ঝ)পরিবারকে দ্রুত আনাতে চাইলে
বাচ্চা সহ থাকার জন্য ফ্যামেলি বাসা, সিঙ্গেল থাকার বাসা থেকে আলাদা হয়। নতুন করে বাসায় উঠতে গেলে অনেক টাকা একেবারেই দিয়ে দেয়া লাগে। তাই দুইবার টাকা না দিতে চাইলে প্রথমেই ফ্যামেলি বাসায় ওঠার চেষ্টা করবেন।
১। আপনি ভিজিট ভিসায় এনে পরে রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করতে পারেন ( অনেক এলাকায় এই সুবিধা নাও দিতে পারে।)
৩। এখানে আসার পর আপানার ব্যাংক একাউন্ট যত দ্রুত হবে, তত তাড়াতাড়ি মোবাইল নিতে পারবেন। ৬ মাসের আগে rakuten ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন না করাই ভাল। আর ৬ মাসের আগে, JRF Remit, Payforex থেকে সরাসরি টাকা পাঠাতে পারবেন, জমা করে নয়।
৪। যখন ওয়ার্ড অফিসে যাবেন দ্রুত My number Card করে ফেলবেন। অনেক সময় এই কার্ডের সৌজন্যে প্রায় ২০,০০০ ইয়েন পাওয়া যায়। আর ফ্যামেলি আনার জন্য জুমিন হ তুলতে গেলে এই কার্ড লাগবে।
ভালভাবে ০৩,০৪ বা ০৫ বছর অতিক্রান্ত করার জন্য আপনি নিজেই কিছুদিনের মধ্যে অনেক কিছুই শিখে যাবেন, এর পাশাআশি কিছু বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই-
১। কখনই বাংগালি অবাংগালি কারও নিন্দা, দোষচর্চা তথা গীবত শুনবেন না আর করবেনও না।
২। যদি কেউ অপছন্দনীয় আচরণ যেমন আপনার সামনে অন্যের দোষচর্চা , অযাচিত কথা কাজ ইত্যাদি করে তাহলে পারলে তাকে সংশধন করান নইলে স্রেফ দূরত্ব বজায় রেখে চলুন।
৩। জাপানি কারও কাছে অন্য জাপানি কিংবা বাংগালির খারাপ কোন বিষয় উল্লেখ না করা বিশেষ করে নিজেদের মধ্যে যে সকল দন্দ সেগুলির ব্যাপারে তাদের না জানানো।
৪। যেখানে আপনার কাজ করা লাগবে , সেখানে বস সম্পর্কে কোন নেতিবাচক কথা কোন জাপানিকে না বলা।
৫। রমযান মাসে সবাই একসাথে কাজ শেষ করা। বসকে ঝুশি করতে গিয়ে অতিরিক্ত কাজ করে অন্যের ধর্ম পালনে অসুবিধা সৃষ্টি না করা।
৬। এদেশীয় মাছ খাওয়ার অভ্যাস করা তাহলে গোস্তের প্রতি আগ্রহ কম থাকবে। ভেলর ( শনি/রবিবার সকাল ০৯ টার দিকে গিয়ে মাছ কিনে কেটে নিতে পারবেন) মম এ বড় মাছ, আর এয়ন বিগে চিংড়ি ও ছোট মাছ পেবেন।
৮। অনেক সময় ছাড় পাবেন ( ১০,২০,৩০,৫০%) ছাড়ের স্টিকার চেনা ( সাধরন্ত হালকা লাল রঙের স্টিকার বারকোডের কিংবা প্যাকেটের গায়ে লাগান থাকে।
৯। ট্রান্সলেটর হিসেবে গুগলের পাশাআশি জাপানে যথেষ্ট জনপ্রিয় এবং বেশ ভাল কাজ করে Deepl Translator কাজেই এটা ব্যবহার করাই ভাল।
১০। প্রথমে আপনার বডি ক্লক ঠিক হতে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে খুমের শিডিউল হয়ত এলোমেলো হয়ে যাবে। কিছুদিন পরেই শরীর এটা মানিয়ে নিবে।
ঞ)মুসলমান হলে অবশ্যই ঈমান রক্ষা করা !
মুসলিম হিসেবে ঈমান টিকিয়ে রাখার জন্য হালাল খাবারের ক্ষেত্রে কোন আপোষ করা যাবে না। জুম্মার নামাজ, মুসল্লা ( মসজিদ) কেন্দ্রিক উঠাবসা করলে ভাল, নইলে কুছুদিন পর থেকেই নিজের জীবন হতে ইসলাম বিদায় নেয়া শুরু করবে। পরবর্তী বংশধর আল্লাহ না করুন, নাস্তিক হবার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে।
(বলা হয় অমুসলিম দেশে বসবাসরত মুসলিম পরিবারে জন্মানো সন্তানেরা প্রতি ৪০ বছরে ২৫% হারে নাস্তিক হয়ে যায়) ।
এটা বড়ই দুঃখজনক যে, ঈমানের দৌলত যা বংশপরম্পরায় লাভ হয়েছিল সেটা পরবর্তী প্রজন্ম থেকে হারিয়ে চিরিস্থায়ী জাহান্নামের বাসিন্দা হয়ে গেল। সুতরাং অমুসলিম দেশে আসার জন্য প্রয়োজনীয় মাসলা মাসায়েল যেমন; হালাল-হারাম খাদ্য ও উপার্জন সম্পর্কে যথা সম্ভব বিস্তারিত জেনে জায়েন।
পুরুষ মানুষ অমুসলিম দেশে যাওয়ার আগে অবশ্যই শাদী মোবারক করে নিয়েন। তাছাড়া সেখানে গেলে লাল, হলুদ চামড়া বের করা ললনাদের থেকে নজরের হেফাজত কঠিন হয়ে যাবে। চোখের সামনে যখন স্বল্পদৌর্ঘ পোশাক পরিহিত উজ্জ্বল চামড়ার নারী চলাচল করবে, আর ক্ষুধার্ত অবস্থায় যখন সামনে হারাম ও সন্দেহ যুক্ত খাবার এবং জীবিকার প্রয়োজনে যখন সামনে হারাম ও সন্দেহ যুক্ত কাজের সুযোগ আসবে তখন ঈমানের টালমাটাল অবস্থায় উপনীত হবার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকে।
নামজের সময় সূচি জানার জন্য বাংলাদেশ হতে পরিচালিত এই দুটি app ব্যবহার করতে পারেন।