Friday, April 23, 2021

যাকাতের কিছু জরুরী মাসায়েল

 

যাকাতের কিছু জরুরী মাসায়েল

সম্পাদনায়ঃ

মুফতী দিলাওয়ার হুসাইন

প্রকাশনায়ঃ মারকাযুল বুহুস আল ইসলামিয়া, উচ্চতর ইসলামি গবেষনা কেন্দ্র

 Download PDF  যাকাত সংক্রান্ত পুস্তক সমূহ লিঙ্ক-০১ লিঙ্ক-০২

স্বর্ণের হিসাব 

স্বর্ণ বা সোনার ওজন পরিমাপ

. যদি কোন সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন বালেগ মুসলমানের কাছে নিজের প্রয়োজনীয় আসবাব সামগ্রী, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি বাসগৃহ ইত্যাদি ব্যতীত ঋণমুক্তভাবে যাকাতের নেসাব পরিমান সম্পদ থাকে অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ (৮৭.৪৮ গ্রাম) বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য (৬১২.৩৬ গ্রাম) কিংবা সমপরিমাণ টাকা বা ব্যবসার মাল থাকে এবং তার উপর বছর অতিক্রান্ত হয় তাহলে উক্ত সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ শতকরা আড়াই পার্সেন্ট হারে যাকাত আদায় করা তার উপর ফরয। (আলমগীরী /১৭০-১৭৬, শামী /১৭৩-১৭৯)

 

. যদি কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা কিছু নগদ টাকা থাকে কিন্তু পৃথক পৃথকভাবে কোনটার নেসাবই পূর্ণ হয় না, তবে সবগুলোর মূল্য একত্রে যোগ করলে যে কোন একটির নেসাব পুরা হয়ে যায়, তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবে। - তাতারখানিয়া /১৭৪, আলমগীরী /১৭৯, শামী /২৩৪

 

. যদি কারো কাছে বছরের শুরু শেষে নেসাব পরিমাণ মাল থাকে কিন্তু বছরের মাঝে / মাস নেসাব থেকে কম থাকে তাহলে তার উপর যাকাত দেয়া ফরয। হ্যাঁ, যদি বছরের মাঝে সম্পদ সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে পূর্বের হিসাব বাদ যাবে। পুনরায় যখন নেসাবের মালিক হবে তখন থেকে নতুন হিসাব ধরা হবে। এবং তখন থেকে এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে।- আলমগীরী /১৭৫, শামী /১৮৩ ২৩৩

 

. অর্থ-সম্পদের প্রত্যেকটা অংশের উপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। কাজেই কারো কাছে যদি বছরের শুরুতে ৪০,০০০/- টাকা থাকে আর তা বাড়তে বাড়তে বছরের শেষে এক লক্ষ টাকা হয়ে যায় তাহলে বছরের শেষে তাকে এক লক্ষ টাকার যাকাত দিতে হবে।- তাতারখানিয়া /১৯৩, আলমগীরী /১৭৫

 

. ব্যবসার উপকরণের উপর যাকাত আসে না। যেমনঃ মিল, কারখানা, দোকান, উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, মেশিন, ভাড়ায় খাটানো হয় এমন বাড়ি-গাড়ি, রিক্সা, সিএনজি, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, স্টিমার ইত্যাদি। তবে এগুলো দ্বারা উৎপাদিত পণ্য উপার্জিত টাকা নেসাব পরিমাণ হলে তার যাকাত দিতে হবে।- শামী /১৮৩, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া /৫৩

                                                                                                            

. ব্যবসার মাল যার যাকাত আদায় করা শরীয়ত ফরয করেছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মাল যা মানুষ ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয় করেছে। যেমনঃ কেউ প্লট-ফ্ল্যাট, গাড়ি ইত্যাদি ভবিষ্যতে বিক্রি করে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ক্রয় করল, সমস্ত মালের যাকাত আদায় করা ফরয। পক্ষান্তরে কারো যদি ক্রয় করার সময় দোদুল্যমানতা থাকে যে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহারও করতে পারে, আর লাভ পাইলে বিক্রিও করতে পারে; তাহলে তা ব্যবসার মাল হিসাবে গণ্য হবে না এবং এর যাকাতও ওয়াজিব হবে না। হ্যাঁ, পরবর্তীতে তা বিক্রি করলে বিক্রয়লব্ধ টাকার যাকাত দিতে হবে। যদি সে পূর্ব থেকেই নেসাবের মালিক হয়ে থাকে তাহলে নেসাবের সাথে টাকারও যাকাত আদায় করবে। অন্যথায় এই টাকা নেসাব পরিমাণ হলে বছর অতিবাহিত হওয়ার পর এর যাকাত ওয়াজিব হবে।- আদদুররুল মুখতার /১৯৪-৯৫, খুলাসাতুল ফাতাওয়া /২৪০, ফাতাওয়ায়ে বাযযাজিয়া /৮৪, বাদায়েউস সানায়ে /৯২, আহসানুল ফাতাওয়া /২৬৭, ফিকহী মাকালাত /১৫১

 

. দোকান ব্যবসার মালের হিসাব তিন প্রকারে করা যায়। () খুচরা মূল্য () পাইকারী মূল্য () সমস্ত মাল একত্রে বিক্রি করলে যে দাম হয়। যাকাতের হিসাবের সময় তৃতীয় প্রকারের মূল্যের হিসাবে যাকাত দিলেও চলবে। তবে সতর্কতামূলক দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ পাইকারী মূল্যের হিসাবে যাকাত দেয়া উত্তম। -ফিকহী মাকালাত /১৫০, ফাতাওয়ায়ে ওসমানী /৬৭

 

. বিক্রিত পণ্যের বকেয়া টাকা হস্তগত হওয়ার পর পেছনের বছর গুলোর যাকাতও একত্রে আদায় করতে হবে। আর যদি বকেয়া টাকা বা ঋণ ফেরত পাওয়ার আশা না থাকে, তাহলে যাকাত দিতে হবে না। তবে পেলে বিগত সকল বছরের যাকাত দিতে হবে।- আলমগীরী /১৭৫, শামী /২৩৬-২৩৭

 

. স্বর্ণ রূপার উপর সর্বাবস্থায় যাকাত আসে, চাই তা অলংকার আকারে থাকুক কিংবা কাঁচা টুকরা আকারে। ব্যবহৃত হোক কিংবা বাক্সে সংরক্ষিত থাকুক বা কাপড়ে, টুপিতে চশমা ঘড়িতে কারূকার্যরূপে থাকুক সর্বাবস্থায় যাকাত আদায় করা ফরয।- আল-বাহরুর রায়ক /৩৯৪, শামী /২২৭

 

১০. মহিলাদের মালিকানায় যে স্বর্ণ বা রূপার অলংকার থাকে এগুলো নেসাব পরিমাণ হলে এগুলোর যাকাত দেয়া তাদের উপর ফরয। নগদ টাকা না থাকলে এগুলো বিক্রি করে হলেও যাকাত আদায় করতে হবে। আর স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে যাকাত আদায় করে দেয় তাহলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, অলংকার যদি স্বামীর মালিকানায় থাকে আর স্ত্রীকে ব্যবহারের জন্য দেয় তাহলে সে অলংকারের যাকাত স্বামীকে আদায় করতে হবে।- আহকামুল কুরআন /১৩৯, শামী /২২৭, ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া /১০৮

 

১১. স্বর্ণের সাথে যে পরিমাণ খাদ থাকে, খাদের অংশ বাদ দিয়ে শুধু স্বর্ণের অংশের যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট। শামী /২৩০, আহসানুল ফাতাওয়া /২৭০

 

১২. প্রভিডেন্ড ফান্ডের টাকা হাতে আসার পর বছর অতিবাহিত হলে যাকাত ফরয হবে। কিন্তু যে টাকাটা চাকরীজীবীর হাতে আসার পর স্বেচ্ছায় ফান্ডে বা অন্য কোন কোম্পানীর নিকট হস্তান্তর করে, তার যাকাত প্রতি বছর আদায় করতে হবে।- শামী /২৩৬, আহসানুল ফাতওয়া /২৬০, মাহমূদিয়া ১৭/১১১

 

১৩. বিভিন্ন ব্যাংক কোম্পানীর শেয়ার যদি দাম বাড়লে বিক্রি করে দিবে উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয় তাহলে তার পূর্ণ বাজার দরের উপর যাকাত আসবে। আর যদি কোম্পানী হতে বাৎসরিক লাভ কামানোর উদ্দেশ্যে ক্রয় করা হয়, তাহলে কোম্পানীর যে পরিমাণ সম্পদ যাকাত যোগ্য (যা ব্যালেন্সশীটের সাহায্যে বেরা করা যাবে।) শেয়ার প্রতি তার আনুপাতিক হার যা হয় শুধুমাত্র রমাণের যাকাত দিতে হবে। তবে যদি যাকাতযোগ্য সম্পদের পরিমাণ জানা সম্ভব না হয় তাহলে সতর্কতামূলক শেয়ারের পূর্ণ বাজার মূল্যের যাকাত দেয়া চাই।- আল-বাহরুর রায়েক /৪০০, আহসানুল ফাতাওয়া /২৮৭, ইসলাম আওর জাদীদ মায়িশাত ওয়া তিজারত, পৃ. ৯২-৯৪, ফাতাওয়ায়ে উসমানি /৭১

 

১৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোতে যদি কেউ ১০/১৫ বছরের জন্য F.D.R করে এককালীন বা মাসে মাসে টাকা জমা করতে থাকে এগুলোর যাকাত হিসাব করার নিয়ম হলো যাকাতের বছর শেষে একাউন্ট ক্লোজড করলে মূল টাকাসহ যত টাকা লাভ পাওয়া যাবে পুরা টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। উল্লেখ্য, সুদী ব্যাংকে F.D.R করলে প্রতি বছর মূল জমাকৃত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। যদি প্রতি বছর যাকাত আদায় না করে তাহলে মেয়াদ শেষে টাকা উত্তোলন করলে একসাথে পিছনের সকল বছরের মূল টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। আর সূদের অংশ পুরাটাই সাদাকা করে দিবে।- জাদীদ ফিকহী মাসায়েল /২১৬

 

১৫. জীবন বীমা কোম্পানীর নিকট জমাকৃত প্রিমিয়ামের যাকাত আদায় করতে হবে।- ফাতাওয়ায়ে উসমানী /৭১

 

১৬. ব্যাংকে ব্যক্তি মালিকানাধীন সকল প্রকার একাউন্টে গচ্ছিত টাকার যাকাত আদায় করা জরুরী। তদ্রুপ বিভিন্ন সমিতি, সমবায় সোসাইটির মধ্যে সদস্যগণ মুযারাবা হিসাবে যে টাকা বিনিয়োগ করে থাকে, সেগুলো নেসাব পরিমাণ হলে বা অন্য মালের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ হলে যাকাত আদায় করা জরুরী।- ফাতাওয়া রহীমীয়া /১৪, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল /৩৭৫

 

১৭. ব্যাংকের একাউন্টে বা অন্য কোথাও গচ্ছিত টাকা তেমনিভাবে যেকোন যাকাতযোগ্য সম্পদ যদি বন্ধক রাখা হয় তাহলে তার যাকাত আদায় করা লাগবে না।- বাদায়েউস সানায়ে /৮৮, আল-বাহরুর রায়েক /৩৫৫

 

১৮. সিকিউরিটি মানি হিসাবে যে টাকা দোকান বাড়ির মালিকগণ গ্রহণ করে থাকে; যদি চুক্তি অনুযায়ী প্রতি মাসে তা ভাড়া বাবদ কর্তন করা হয়, তাহলে মালিকদেরকে টাকার যাকাত দিতে হবে। আর যদি তা ফেরতযোগ্য হয় অর্থাৎ দোকান বা বাড়ি ছেড়ে দিলে তা ফেরত দেয়া হয় মালিকগণ টাকা খরচ না করে আমানত হিসাবে রাখেন তাহলে ভাড়াটিয়াকে টাকার যাকাত দিতে হবে।- ফাতহুল কাদীর /১২১, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল /২১৭-১৯

 

১৯. জমি, প্ল্যাট বা অন্য কিছু কিনে প্রাথমিক যে টাকা দিয়ে বায়না করা হয় সে টাকার মালিক বিক্রেতা। অতএব বিক্রেতাকে এর যাকাত দিতে হবে।- ফাতাওয়ায়ে উসমানী /৭২

 

২০. ঋণ দুই প্রকার () ব্যক্তিগত সাংসারিক প্রয়োজনে মানুষ যে ঋণ নেয়। যাকাতের নেসাব থেকে ধরনের ঋণের টাকা বিয়োগ করে বাকী মালের যাকাত দিতে হবে। () বাণিজ্যিক ঋণ যা বাণিজ্যিক স্বার্থে যেমন মিল-কারখানা করা, কাঁচা মাল ক্রয় করা ইত্যাদি এগুলোর জন্য যে ঋণ নেয়া হয় যদি তা দ্বারা যাকাতযোগ্য সম্পদ যেমন কাঁচা মাল ইত্যাদি ক্রয় করে, তাহলে এই ঋণও যাকাতের নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে। আর যদি এর দ্বারা এমন সম্পদ ক্রয় করা হয় যা যাকাতযোগ্য নয় যেমন মেশিনারী জিনিস ইত্যাদি। তাহলে ঋণ যাকাতের মূল নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে না। উল্লেখ্য, বাণিজ্যিক ঋণ দ্বারা যদি যাকাতযোগ্য মাল ক্রয় করা হয় তাহলে যাকাতের হিসাবের সময় আগামী এক বছরে পরিশোধযোগ্য পরিমাণ ঋণই শুধু বিয়োগ করা যাবে।

এর অতিরিক্তটা এই বছরে বিয়োগ করা যাবে না। যে বছর পরিশোধ করবে বছর বিয়োগ করতে পারবে।- ফাতাওয়ায়ে ওসমানী /৮৩, ফিকহী মাকালাত /১৫৫-৫৬, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল /৬৭, ইসলাম আওর জাদীদ মাঈশাত ওয়া তিজারত, ৯৪

 

২১. কাউকে ঋণ দেয়ার পর আদায়ে গড়িমসি করলে তা যাকাত হিসাবে কর্তন করা যাবে না। হঁ্যা, যাকাতের টাকা তার হাতে দিয়ে পূর্বের পাওনা বাবদ তা উসূল করে নিতে পারবে। তাতারখানিয়া /১৯৯, তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৭১৫

 

২২. যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পর যদি যাকাত অনাদায়ী থাকে আর ইত্যবসরে সমস্ত মাল বরবারদ হয়ে যায় তাহলে আর যাকাত আদায় করা লাগবে না। আর যদি কিছু মাল বরবাদ হয় তাহলে অংশের যাকাত দেয়া লাগবে না। তবে যদি ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করে তাহলে যাকাত আদায় করা আবশ্যক।- আদদুররুল মুখতার শামী /২০৭-২০৮

 

২৩. স্ত্রীর মহর অনাদায়ী থাকলে যদি তা পরিশোধ করার ইচ্ছা থাকে তাহলে যাকাতের নেসাব থেকে এই ঋণ বিয়োগ করে বাকী অংশের যাকাত দিলে চলবে। আর যদি পরিশোধ করার ইচ্ছা না থাকে তাহলে এটাকে এই বছরের নেসাব থেকে বিয়োগ করা যাবে না।- আলমগীরী /১৭৩

 

২৪. কেউ যদি হজের জন্য টাকা জমা করে তাহলে টাকার যাকাত আদায় করাও ফরয। হজের কাজে টাকা খরচ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। আলমগীরী /১৭৩

 

২৫. কেউ যদি বাড়ি করার উদ্দেশ্যে টাকা জমা করে তাহলে বাড়ির কাজে টাকা খরচ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি বছর টাকার যাকাত আদায় করতে হবে। -নায়াদিদুরুল ফিকহ /৩৭৮-৩৮৪

 

২৬. যে মাল ক্রয় করার পর এখনো হস্তগত হয়নি তার যাকাত দেয়া লাগবে না। হ্যাঁ, হস্তগত হওয়ার পর যাকাত আদায় করা জরুরী।- আল বাহরুর রায়েক /৩৫৫ জাদীদ ফিকহী মাসায়েল /২১৯

২৭. হালাল হারাম মাল একত্রে মিশ্রিত হলে যদি হারাম মালের পরিমাণ মালিক জানা থাকে তাহলে তা মালিককে ফেরত দেয়া জরুরী। আর যদি পরিমাণ জানা থাকে; কিন্তু মালিক জানা নেই বা তাকে পৌছানো সম্ভব নয়; তাহলে এক্ষেত্রে টাকাগুলো মালিকের পক্ষ থেকে সাদাকা করে দিবে। পক্ষান্তরে যদি হারাম মালের পরিমান মালিক জানা না থাকে; আর হালাল মালের পরিমাণ হারামের চেয়ে বেশি হয় হারাম মাল চিহ্নিত করা না যায় ক্ষেত্রে সকল মাল একত্রে হিসাব করে পুরাটার যাকাত আদায় করা জরুরী।- শামী /২১৭-২১৮, ইমদাদুল ফাতাওয়া /১৪, জাদীদ ফিকহী মাসায়েল /২১৬-২১৭

২৮. স্বর্ণ-অলংকার ছাড়া অন্য কোন ধাতুর অলংকার বা মুক্ত কিংবা অন্য কোন মূল্যবান পাথরের অলংকার ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত না হলে এগুলোর যাকাত দেয়া লাগবে না।- আরুরুল মুখতা-১৯৪



 






Thursday, April 22, 2021

ব্যবসার মূলধন এবং দোকানের যাকাত

 প্রশ্নঃ  দিদারুল ইসলাম ব্যবসায় ৬,৫০,০০০/= invest করেছে। তার invest এর খাত সমূহ নিম্নরূপ ১। ব্যবসার দোকান ভাড়ার অগ্রিম= ১৫,০০০/=
২। মাসিক ভাড়া= ৮
,০০০/=
৩। দোকানের জন্য আসবাব= ১২
,০০০/=
৪। ব্যবসার জন্য
machinery ( উৎপাদন কাজে ব্যবহার করা হবে)=১,৬০,০০০/=
৫।দোকানে বিক্রয়ের জন্য কেনা মালামাল= ১
,৮০,০০০/=
৬। হাতে আছে নগদ= ৫০
,০০০/=

উপরোল্লিখিত খাত সমুহের বিবেচনায় ১। দিদারের জন্য যাকাত যোগ্য (অর্থের ) খাত সমূহ কোনগুলো
? ২। দিদার কিভাবে যাকাত হিসাব করবে? ( উপরের টাকা অনুযায়ী কত পরিমান যাকাত দেয়া লাগবে?)

উত্তরঃ 
১.  ১, , ৬ যাকাত যোগ্য খাত। ১ নম্বরের যাকাত এখনও দিতে পারবে, হাতে আসলে দিলেও হবে। ৫ নম্বরের পাইকারি মূল্যের যাকাত দিবে।

২. যদি ব্যবসা চলমান থাকে তাহলে, ১ নম্বরের যাকাত প্রতিবছর আদায় করতে হবে, তবে হাতে আসার পর সব বছরের টা এক সাথে দিলেও হবে । উল্লেখ্য ১ নম্বরের যতটুকু কর্তন হবে তার যাকাত দিতে হবে না; আর যদি পুরাটাই অগ্রিম ভাড়া হয় তাহলে কোন যাকাত নাই ।

Sunday, February 7, 2021

০৫/০৪/০৩ স্তর বিশিষ্ট বোরখা আর কামিজ মূল্য সহ

 সরাসরি কিনতে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। (01914610910)  বিভিন্ন রঙ এ পাওয়া যাবে।



কামিজ ১৯০০ টাকা ( gr-01)

কামিজ ১৯০০ টাকা ( gr-01)




কামিজ ১৯০০ টাকা ( gr-01)


কামিজ ১৬০০ টাকা ( Sgr-01)




কামিজ SIMPLE ১৪০০ টাকা ( sm-01)


বোরখা সিম্পল ০৫ স্তর বিশিষ্ট  ১৫০০ ( দেশি ১৩০০ টাকা) লেস ছাড়া


বোরখা সিম্পল ০৫ স্তর বিশিষ্ট  ১৫০০ ( দেশি ১৩০০ টাকা) লেস ছাড়া

                                                          

 


বোরখার কাপড়


বোরখা সিম্পল ০৫ স্তর বিশিষ্ট  ১৮০০ ( করিয়ান কাপড়) লেস ছাড়া


বোরখা সিম্পল ০৫ স্তর বিশিষ্ট  ১৮০০ ( করিয়ান কাপড়) লেস ছাড়া


বোরখা সিম্পল ০৫ স্তর বিশিষ্ট  ১৫০০ ( দেশি ১৩০০ টাকা) লেস ছাড়া




বোরখা সিম্পল ০৫ স্তর বিশিষ্ট  ১৫০০ ( দেশি ১৩০০ টাকা) লেস ছাড়া


বোরখা  ০৫ স্তর বিশিষ্ট  ১৮০০  লেস সহ (লেস ছাড়া ১৬০০ টাকা)



বোরখা  ০৫ স্তর বিশিষ্ট  ১৮০০  লেস সহ (লেস ছাড়া ১৬০০ টাকা)

এম্ব্রয়ডারি করলে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি লাগবে।




সরাসরি যোগাযোগ ঃ lssowry@gmail.com


Sunday, January 17, 2021

মুখতাসার-রুকইয়াহ

 
















 





রুকইয়াহঅণডও
ডাউেয়লাড
: https://ruqyahbd.org/download
রুকইয়াহসায় ািে
গ্রু
: https://facebook.com/groups/ruqyahbd
রুকইয়াহণবষয়কঅেযােযতয়থযরজেয
: www.ruqyahbd.org



Saturday, January 2, 2021

Friday, January 1, 2021

ভেবেছিলাম অন্তত ৭০-৮০ বছর বাঁচব। নাতি নাতনিদের সাথে খেলব। ইউরোপ, আমেরিকা ট্যুরে যাব!!!

 ভেবেছিলাম অন্তত ৭০-৮০ বছর বাঁচব। নাতি নাতনিদের সাথে খেলব। ইউরোপ, আমেরিকা ট্যুরে যাব!!!


Source: Sam Osherson

জামাতে আসরের নামাজ পড়ে মসজিদ হতে বেরিয়ে হাঁটছিলাম। পিছন হতে একজন ভদ্রলোককে বেশ পরিচিত মনে হল, দেখেছি বার কয়েক। একটু দ্রুত পা চালিয়ে ধরলাম।

– শরিফ ভাই, আস সালামু আলাইকুম। আমাদের পাড়ায় কবে আসছেন? আপনার ফ্ল্যাট তো মনে হয় রেডি। অনেক ইনটেরিয়র এর কাজও হয়েছে মনে হয়। রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করার সময় কাজের শব্দ পাই। দামী দামী সব ফিটিংস নিয়ে মিনিট্রাক, পিকআপ এসে দাঁড়ায়, দেখতে পাই।

ভদ্রলোক দুবাইয়ে ব্যবসা করেন। অনেক কষ্ট করে হাসলেন। ৫৫-৫৬ বছর হবে মাত্র বয়স। দেশে আসা যাওয়ার মধ্যে থাকেন।

– ফ্ল্যাট রেডি হয়েছে ২ মাস আগে। এই ফ্ল্যাটে উঠা আর না উঠা এখন একই কথা আমার জন্য।

– কেন ভাইয়া, কোন সমস্যা?

– জানো, প্রায় ৭ বছর ধরে টাকা জমিয়েছিলাম এই ফ্ল্যাটটার জন্য। এরপর ৩ বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা এই এপার্টমেন্ট। ৬ মাস ধরে ৪৩ লাখ টাকার ইনটেরিয়র, ৭ টা এসি, সেগুন কাঠের সব আলমিরা আর লেকার করা কিচেন কেবিনেট লাগানো সুপারভাইজ করলাম। শুধু আর্কিটেক্ট এর বিলই দিয়েছি ১২ লাখ টাকা। এখন সব আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি।

– বুঝলাম না ভাইয়া।

– আমার একটা কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, অন্যটা মাত্র ১৫ ভাগ কাজ করছে। ডায়ালিসিস করে চলছি। বড়জোর ৬ থেকে ১২ মাস হয়ত চলবে এভাবে, তাও হয়ত নিশ্চিত না……বলে উপরের দিকে তাকালেন…। কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার জন্য চেষ্টা করেছিলাম, এখনো ম্যাচিং কিডনি পাইনি। পেলেও ৪০-৪৫ লাখ টাকার বাজেট দিয়েছে। আরো বেশী লাগাও বিচিত্র না। হাতে টাকা নেই, এত বছরের গড়ে তোলা ফ্ল্যাট, সামান্য একটা অসুখেই মুহুর্তে কাগজের মত উড়ে যাবে। কি অদ্ভুত না, আল্লাহ ছোট ছোট সমস্যা দিয়ে দেয় আর কোটিপতি রাতারাতি পথের ফকির হয়ে যায়।

– এত শখ করে বানালেন যখন উঠে আসেন, আমরাও একটু ভালমন্দ খাওয়ার দাওয়াত পাব। নতুন ফ্ল্যাট হতে চিকিৎসা চলুক………।আমি বললাম।

অশ্রুসজল চোখে শরিফ ভাই বললেন,
-ভাই, অবাক হয়ে ভাবি, এই ফ্ল্যাটটার জন্য জীবন দিয়ে দিলাম। কয়মাস পরেই যে সাড়ে তিন হাত ঘরে যাব তার জন্য কিছুই ভাবি নাই। কোন সঞ্চয় নাই। ভেবেছিলাম অন্তত ৭০-৮০ বছর বাঁচব। নাতি নাতনিদের সাথে খেলব। ইউরোপ, আমেরিকা ট্যুরে যাব।

একটা ছোট্ট ঘরে গিয়ে কয়’শ কিংবা হাজার বছর শুয়ে থাকতে হবে, অথচ সেই ঘরের জন্য কোন ইনটেরিয়র করলাম না। কোন এসি লাগালাম না, টাইলস লাগাবার সুযোগ নাই, লেকার পলিশ করার নিয়ম নাই, বসার জন্য সোফাসেট নাই। এখন আর এগুলার জন্য হাতে সময় নাই। মাফ চেয়ে কুল পাচ্ছি না। অল্পতেই চোখে পানি আসে। একটা সময় অনেক চেষ্টা করলেও একদম আসত না। বরং অন্যদের কান্না দেখে অবাক হতাম। আমি জানি না, ওখানে গিয়ে কিভাবে শুয়ে থাকব, শিমুল তুলার বালিশ ছাড়া আমার তো ঘুম আসে না। আসি, আমার জন্য দোয়া করিও।

উনার কথা শুনে একটা হার্টবিট মিস করলাম। আমাদের সাথেও কি অদ্ভুত মিল!!
এই দুনিয়ার শান শওকত সবই মিথ্যা মায়া মরিচিকা।সাড়ে তিনহাত মাটির ঘরই সত্যি।

(কালেক্টেড)

Thursday, December 31, 2020

মাহরাম কারা ( মাহরামের তালিকা)

 প্রশ্ন

একজন পুরুষের কোন কোন মহিলার সাথে দেখা করা জায়েজ। আবার একজন মহিলার কোন কোন পুরুষের সাথে দেখা করা জায়েজ। জবাব: بسم الله الرحمن الرحيم নারীদের মাহরাম তথা যাদের সাথে দেখা করা জায়েজ ১-বাপ, দাদা, নানা ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু পুরুষগণ। ২-সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই। ৩-শ্বশুর, আপন দাদা শ্বশুর ও নানা শ্বশুর এবং তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু পুরুষগণ। ৪-আপন ছেলে, ছেলের ছেলে, মেয়ের ছেলে এবং তাদের ঔরষজাত পুত্র সন্তান এবং কন্যা সন্তানদের স্বামী। ৫-স্বামীর অন্য স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র। ৬-ভাতিজা, ভাগিনা তথা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনের ছেলে ও তাদের অধঃস্থন কোন ছেলে। ৭-আপন চাচা অর্থাৎ বাপের সহোদর, বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয় ভাই। ৮-আপন মামা তথা মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই। ৯-দুধ সম্পর্কীয় ছেলে, উক্ত ছেলের ছেলে, দুধ সম্পর্কীয় মেয়ের ছেলে ও তাদের ঔরষজাত যে কোন পুত্র সন্তান এবং দুধ সম্পর্কীয় মেয়ের স্বামী। ১০-দুধ সম্পর্কীয় বাপ, চাচা, মামা, দাদা, নানা ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু পুরুষগণ। ১১-দুধ সম্পর্কীয় ভাই, দুধ ভাইয়ের ছেলে, দুধ বোনের ছেলে এবং তাদের ঔরষজাত যে কোন পুত্র সন্তান। ১২-শরীয়ত অনুমোদিত বৈধ স্বামী। ১৩-যৌন শক্তিহীন এমন বৃদ্ধ, যার মাঝে মহিলাদের প্রতি কোন আকর্ষণ নেই আবার মহিলাদেরও তার প্রতি কোন আকর্ষণ নেই। ১৪-অপ্রাপ্ত বয়স্ক এমন বালক যার মাঝে এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি। উপরোক্ত পুরুষগণ ছাড়া কোন মহিলার জন্য অন্য কোন পুরুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ হারাম। পুরুষের মাহরাম তথা যাদের সামনে যাওয়া জায়েজ ১-মা। ২-দাদি।, নানী ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু মহিলাগণ। ৩-বোন [আপন হোক বা দুধ বোন বা বৈপিত্রেয় বা বৈমাত্রেয় হোক]। ৪-আপন মেয়ে, ছেলের মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, এবং তাদের গর্ভজাত যে কোন কন্যা সন্তান ও ছেলে সন্তানদের স্ত্রী। ৫-বিবাহিত বৈধ স্ত্রী এবং যে স্ত্রীর সাথে দৈহিক মিলন সংঘটিত হয়েছে তার পূর্ববর্তী বা পরবর্তী স্বামীর কন্যা সন্তান। স্ত্রীর মা অর্থাৎ শ্বাশুরী, দাদী শ্বাশুরী। ৬-ফুপু, তথা পিতার সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন। ৭-খালা তথা মায়ের সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় বোন ও বৈপিত্রেয় বোন। ৮-ভাতিজি, তথা সহোদর, বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে তাদের অধঃস্থন কন্যা সন্তান। ৯-ভাগ্নি তথা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে ও তাদের অধঃস্থন কন্যা সন্তান। ১০-দুধ সম্পর্কীয় মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, ছেলের মেয়ে ও তাদের অধঃস্থন যে কোন কন্যা সন্তান ও দুধ সম্পর্কীয় ছেলের স্ত্রী। ১১-দুধ সম্পর্কীয় মা, খালা, ফুপু, নানী, দাদী ও তাদের উর্ধ্বতন ক্রমানু মহিলাগণ। ১২-দুধ সম্পর্কীয় বোন, দুধ বোনের মেয়ে, দুধ ভাইয়ের মেয়ে এবং তাদের গর্ভজাত যে কোন কন্যা সন্তান। ১৩-যৌন শক্তিহীন এমন বৃদ্ধা যার প্রতি পুরুষের কোন প্রকার আকর্ষণ নেই। ১৪-অপ্রাপ্ত বয়স্কা এমন মেয়ে যার প্রতি পুরুষের এখনো যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয়নি। উপরোক্ত মহিলাগণ ছাড়া কোন পুরুষের জন্য অন্য কোন মহিলার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েজ নয়। সম্পূর্ণ হারাম। দলিল يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَنْ يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانْتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنْكُمْ ۖ وَاللَّهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ ۚ وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ۚ ذَٰلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ ۚ وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُؤْذُوا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْ تَنْكِحُوا أَزْوَاجَهُ مِنْ بَعْدِهِ أَبَدًا ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللَّهِ عَظِيمًا [٣٣:٥٣]إِنْ تُبْدُوا شَيْئًا أَوْ تُخْفُوهُ فَإِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا [٣٣:٥٤]لَا جُنَاحَ عَلَيْهِنَّ فِي آبَائِهِنَّ وَلَا أَبْنَائِهِنَّ وَلَا إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ إِخْوَانِهِنَّ وَلَا أَبْنَاءِ أَخَوَاتِهِنَّ وَلَا نِسَائِهِنَّ وَلَا مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ ۗ وَاتَّقِينَ اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدًا [٣٣:٥٥] অনুবাদ-হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য আহার্য রন্ধনের অপেক্ষা না করে নবীর গৃহে প্রবেশ করো না। তবে তোমরা আহুত হলে প্রবেশ করো, তবে অতঃপর খাওয়া শেষে আপনা আপনি চলে যেয়ো, কথাবার্তায় মশগুল হয়ে যেয়ো না। নিশ্চয় এটা নবীর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের কাছে সংকোচ বোধ করেন; কিন্তু আল্লাহ সত্যকথা বলতে সংকোচ করেন না। তোমরা তাঁর পত্নীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্যে এবং তাঁদের অন্তরের জন্যে অধিকতর পবিত্রতার কারণ। আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়া এবং তাঁর ওফাতের পর তাঁর পত্নীগণকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। আল্লাহর কাছে এটা গুরুতর অপরাধ। তোমরা খোলাখুলি কিছু বল অথবা গোপন রাখ, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বজ্ঞ। নবী-পত্নীগণের জন্যে তাঁদের পিতা পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নি পুত্র, সহধর্মিনী নারী এবং অধিকার ভুক্ত দাসদাসীগণের সামনে যাওয়ার ব্যাপারে গোনাহ নেই। নবী-পত্নীগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয় প্রত্যক্ষ করেন। {সূরা আহযাব-৫৩-৫৫} قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ [٢٤:٣٠ وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٢٤:٣١ মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। {সূরা নূর-৩০-৩১} দ্রষ্টব্য: সূরা আহযাব-৫৩-৫৫ সূরা নিসা-২৩ সূরা নূর-৩০-৩১ তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন-২/২৫৬-৩৬১ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন-৬/৪০১-৪০৫ তাফসীরে মাযহারী-২/২৫৪-২৬১ ও ৬/৪৯৭-৫০২ والله اعلم بالصواب উত্তর লিখনে লুৎফুর রহমান ফরায়েজী পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনষ্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা। ইমেইল- ahlehaqmedia2014@gmail.com lutforfarazi@yahoo.com